Friday, September 27, 2013

ডায়বেটিস আপনারও হতে পারে: সচেতন হউন আজই-২



দিন দিন আমাদের পারিপার্শ্বিক পরিবর্তন, কায়িক পরিশ্রম কমে যাওয়া, জলবায়ু পরিবর্তন এবং খাদ্যে ভেজাল ইত্যাদি নানা কারণে ডায়বেটিসের মতো রোগের প্রদুর্ভাব বেড়েই চলছে। তবে এগুলো রোধ করতে না পারলেও এদের নিয়ন্ত্রণ দিতে পারে সুস্থ্য সুন্দর জীবনের আশ্বাস। ডায়বেটিস সচেতনতায় আজ থাকছে আরো পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর।

 
প্রশ্নঃ ৬
ডায়বেটিস হলে মিষ্টি, আলু, ভাত সবই খাওয়া চলে?
উত্তরঃ
হ্যাঁ। আমরা হিসেব করে টোটাল ক্যালোরি ইনটেকের ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা দিতে পারি। এর মানে এই নয় যে, মিষ্টি, আলু, ভাত এইসব খাওয়া যাবে না। ন’মাসে-ছ’মাসে এক আধটা মিষ্টি খাওয়াই যায়, যদি রোগীর ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকে। আমরা সাধারণত ‘ব্ল্যাঙ্ক ক্যালরি’ বা খুব তাড়াতাড়ি শরীরে শোষিত হয় এমন ধরনের খাবার খেতে নিষেধ করি। যেমন-চিনি, কোল্ড ড্রিঙ্কস, চকোলেট ইত্যাদি। কারণ, এগুলো চট করে ক্যালরি বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু, যদি কেউ একটা মিষ্টি খেয়ে সারাদিন সেই পরিমান ক্যালরি পরিশ্রম করে ঝরিয়ে ফেলতে পারেন, তাহলে ন’মালে-ছ’মাসে একটা মিষ্টি খাওয়া যেতেই পারে।

প্রশ্নঃ ৭
ইনসুলিন শুরু করা মানে আর কোনও ওষুধ কাজ করে না। এটা কি ঠিক?
উত্তরঃ
ইনসুলিন কিন্তু ডায়বেটিসের আল্টিমেট এবং সেরা চিকিত্সা। যে সব ক্ষেত্রে ডায়বেটিসের ট্যাবলেট কাজ করে না, সেখানে ইনসুলিন ছাড়া কোনও গতি নেই। যখন কোনও ধরনের সমস্যা দেখা দেয়, যেমন-হার্ট অ্যাটাক, কিডনি ফেলিওর ইত্যাদি, তখন ডায়বেটিসের জন্য ইনসুলিন ছাড়া অন্য কোনও ওষুধ নেই। কিন্তু, বেশ কিছু ক্ষেত্রে রোগীর অবস্থা ভাল হয়ে গেলে এবং ‘স্টেবল’ থাকলে ইনসুলিন বন্ধ করে ট্যাবলেট চালু করা যেতে পারে। কিন্তু, এটা অবশ্যই একজন অভিজ্ঞ, বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের তত্ত্বাবধানে হতে হবে।
প্রশ্নঃ ৮
আনুমানিক কতজন মানুষ বিশ্বে ডায়বেটিস রোগে ভুগছেন?
উত্তরঃ
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ওয়ার্ল্ড হেলথ ওরগ্যানাইজেশন বা ‘হু’) এবং আই ডি এফ-এর মত সংস্থারা অনুমান করছেন যে, সারা বিশ্বে প্রায় ২৫ কোটি মানুষ ডায়বেটিসে ভোগেন। এইসব সংস্থার অনুমান, আরও প্রায় ১০-১৫ কোটি ডায়বেটিক রোগী আছেন, কিন্তু কোনওরকম স্বাস্থ্য সেবার সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ নেই বলে তাঁদের চিহ্নিত করা যাচ্ছে না। দুর্ভাগ্যবশত, এই ২৫ কোটি সংখ্যাটা আগামী ১০ বছরে ৪০ কোটিতে পরিণত হতে চলেছে। আর একটা সমস্যা হল, উপমহাদেশে ডায়বেটিস রোগীর সংখ্যা প্রতিদিন বেড়েই চলছে। অনুমান করা যায়, বাংলাদেশে প্রায় ১০-২০ শতাংশ মানুষ ডায়বেটিসের রোগী।

প্রশ্নঃ ৯
ডায়বেটিসের চিকিত্সা চলাকালীন কতদিন অন্তর রক্তপরীক্ষা করাতে হয়?
উত্তরঃ
এখানে দিন বলে কোনও ব্যাপার নেই। ডায়বেটিসের বেশ কিছু কমপ্লিকেশনে অনেকসময় আমরা দিনে ৪-৫ বার পর্যন্ত টেস্ট করি। কিন্তু, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দিনে বার দুয়েক টেস্ট করলেই চলে। যেটাকে আমরা ফাস্টিং এবং পি পি সুগার টেস্ট বলি। কতদিন পর পর টেস্ট করতে লাগবে, তা রোগীর অবস্থার ওপর নির্ভরশীল। কখনও ২-৩ দিন অন্তর, কখনও বা আবার ২-৩ মাস অন্তর পরীক্ষা করাতে লাগে।

প্রশ্নঃ ১০
ফাস্টিং এবং পি পি সুগার কীভাবে টেস্ট করা উচিত?
উত্তরঃ
ফাস্টিং সুগার টেস্ট করতে গেলে অন্তত ৮ ঘণ্টা কোনওরকম ক্যালরি নেওয়া চলবে না। তবে, শুধু পানি খাওয়া যেতে পারে। অন্যদিকে পি পি সুগারের ক্ষেত্রে দিনের মেজর বা প্রধান মিলের পর টেস্ট করাতে হবে। যদি সকালে ভারী নাশতা করে দুপুরে হালকে টিফিন করার অভ্যাস থাকে, তাহলে নাশতার ২ ঘণ্টা পরে যে সুগার টেস্ট করা হবে, সেটাই পি পি সুগার। আর, যদি সকালে হালকা টিফিন করে দুপুরে ভারী খাবার খাওয়ার অভ্যাস থাকে, তাহলে তার ২ ঘণ্টা পরের টেস্টটা হবে পি পি সুগার। যদি ফাস্টিং সুগার টেস্ট বা খালি পেটে সুগারের পরিমাণ ৭ মিলি.মোল/লিটার এর বেশি থাকে এবং পি পি সুগার বা ভরা পেটে সুগারের পরিমাণ ১১.১ মিলি.মোল/লিটার এর বেশি থাকে, তাহলে আমরা ধরে নিই যে রোগীটি ডায়বেটিস মেলিটাস হয়েছে। এর পর থেকেই তাকে চিকিৎসার আওতায় চলে আসা উচিত।
পূর্বের পোস্ট: ডায়বেটিস আপনারও হতে পারে: সচেতন হউন আজই-১

0 comments:

Post a Comment

 
Copyright © . ডাক্তারের পরামর্শ - Posts · Comments
Theme Template by BTDesigner · Powered by Blogger