Saturday, October 5, 2013

জুতা খোলার পর পা থেকে দুর্ঘন্ধ বেরোয় ?

জুতা পায়ে দিলে অনেকেরই পায়ে দুর্গন্ধ হয়। শীতকালে এ সমস্যা হয় বেশি। যার পা থেকে দুর্গন্ধ বের হয়, সে দুর্গন্ধটা তেমনভাবে টের না পেলেও আশেপাশে যারা থাকে তারা বাজে গন্ধটা পায় বিকটভাবে। জুতা বা মোজা খোলার সাথে সাথে বিশ্রী গন্ধ ছড়িয়ে পরে চারদিক! তখন বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পরতে হয়। আর আশেপাশে থাকা লোকজনও অস্বস্থি বোধ করে, বিরক্তও হয় বটে!

এ সমস্যার জন্য এ্যালপ্যাখি কোনো চিকিৎসা নাই ,একমাত্র হোমিওপ্যাথিই এর চিকিৎসা আছে।হোমিওপ্যাথি মেডিসিন এ সমস্যার জন্য দ্রুত ও সল্পসময়ের মধ্যেই রেজাল্ট পাওয়া যায়।

পায়ে দুর্গন্ধ কেন হয় ?



আমাদের শরীরের ত্বকে প্রায় ২০ লাখ থেকে ৫০ লাখ ঘর্মগ্রন্থি আছে। এসব গ্রন্থির বেশিরভাই আছে আমদের পায়ে, প্রায় পাঁচ লাখ। পা জুতার ভেতর থাকলে অনেকেরই পা বেশি ঘামে। ঘামের সাথে বের হয় পানি, খনিজ লবণ, তেল বা চর্বি জাতীয় পদার্থসহ শরীর বিপাকীয় নানা পদার্থ। পায়ের ত্বকে থাকা হাজারো জীবাণু বেঁচে থাকা ও বংশবৃদ্ধির জন্য ঘর্মাক্ত পায়ের স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে ঘামের এসব জিনিস খেতে উঠেপড়ে লাগে। এর ফলে তৈরি হতে থাকে নানা উচ্ছিষ্ট। আইসোভ্যালেরিক এসিড এর মধ্যে অন্যতম। এই আইসোভ্যালেরিক এসিডের কারণেই পায়ে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়।

পায়ের দুর্গন্ধ থেকে পরিত্রাণের উপায়

পায়ের দুর্গন্ধ দূর করার প্রথম কথা হল পায়ের যত্ন নিতে হবে। পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা বেশ জরুরি। জুতা-মোজা সবসময় পরিস্কার রাখতে হবে। এছাড়াও কিছু বিষয়ের প্রতি নজর দিতে হবে-

পা পরিষ্কার রাখতে হবে। প্রতিদিন একাধিকবার পা ধুতে হবে। সাবান দিয়ে ধোয়াই সবচেয়ে ভালো।

অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সোপ সবচেয়ে উত্তম। হালকা গরম পানিতে সাবানের ফেনা করে পা ধুলে ত্বকে জমে থাকা জীবাণু কমবে।

লেবুর রস বা জ্বাল দেয়া ঠাণ্ডা কালো চা পানিতে মিশিয়ে সে পানিতে কয়েক মিনিট পা ভিজিয়ে রাখলে লেবুর রস বা চায়ের এসিড জীবাণু নষ্ট করবে।

জুতা বা মোজা পায়ে দেয়ার আগে পা ভালো করে শুকিয়ে নিতে হবে। জুতা অনেকক্ষণ পরে থাকলে পা যদি ভেজা ভেজা লাগে তাহলে জুতা খুলে রাখতে হবে।

মোজার ব্যবহারের ক্ষেত্রে সুতি মোজা ব্যবহার করতে হবে। সুতি মোজা পায়ের ঘাম শোষণ করে নেয়।

প্রতিদিনের ব্যবহৃত মোজা ধুয়ে দিতে হবে। প্রতিদিন ধোয়া মোজা ব্যবহার করতে হবে।

খোলা স্যান্ডেল ব্যবহার করতে হবে। জুতা পায়ে দিলে চামড়া বা কাপড়ের জুতা ব্যবহার করতে হবে। এতে বাহিরের বাতাস জুতার ভেতর যাওয়া-আসা করতে পারবে। পা ঘামবে না।

একজোড়া জুতা প্রতিদিন ব্যবহার না করাই ভালো। দু’ জোড়া জুতা বদল করে ব্যবহার করা যেতে পারে।

বাসায় ফিরে জুতা শুকাতে হবে। রাতে ভালোভাবে না শুকালে রোদে শুকিয়ে নিতে হবে।

জুতা পায়ে দেয়ার আগে জুতার ভেতর ট্যালকম পাউডার, বরিক এসিড পাউডার বা দুর্গন্ধনাশক ব্যবহার করা যেতে পারে।

পায়ের নখ ছোট রাখতে হবে। এতে জীবাণু লুকিয়ে থাকার জায়গা কমবে।

দুশ্চিন্তা, মানসিক চাপ কমাতে হবে। কারণ, এতে শরীর বেশি ঘামে।

চিকিৎসাঃ-
এই সমস্যার জন্য একমাত্র চিকিৎসা হোমিওপ্যাথি যে যাই বলুক হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা ছাড়া এ সমস্যা সমাধান হবে না।

0 comments:

Post a Comment

 
Copyright © . ডাক্তারের পরামর্শ - Posts · Comments
Theme Template by BTDesigner · Powered by Blogger