Monday, September 23, 2013

ব্যথা নিরাময়ে ব্যায়াম


 শরীরে ব্যথা নেই, বয়স্ক এমন কাউকেই হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবে না। চিকিৎসকের চেম্বারে যারা পরামর্শের জন্য নিয়মিত আসা যাওয়া করেন, তাদের প্রায় প্রত্যেকেরই ব্যথাজনিত শারীরিক সমস্যা নিয়ে কমবেশি অভিযোগ রয়েছে। তবে শুধু বয়স্করাই ব্যথায় আক্রান্ত হবেন এমনটা নয়, বরং সব বয়সের নারী পুরুষের জন্যই এখন ব্যথা একটি সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে।

আসলে বর্তমান আধুনিক জীবনে, সময়ের সঙ্গে তাল মেলাতে সবাইকেই ছুটতে হয় বিরামহীন, করতে হয় অতিরিক্ত পরিশ্রম, সঙ্গে মানসিক চাপ তো আছেই। জীবনযাপনের এমন বাস্তবতায় তাই কোনো না কোনো ধরণের ব্যথায় আক্রান্ত হওয়াটাই স্বাভাবিক।

এ সব ক্ষেত্রে ব্যথা যাদের সহ্যের সীমা ছা‍ড়ায়, চিকিৎসকরা তাদের জন্য সাধারণত পেইন কিলার বা ব্যথানাশক ওষুধের ব্যবস্থাপত্র দিয়ে থাকেন। এছাড়া এমনও লোকও খুঁজলে মিলবে ভুরিভুরি, সামান্য ব্যথ‍াতেই যারা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সেবন করেন ব্যথানাশক ওষুধ। তবে এসব ক্ষেত্রে আপাত সমাধান মিললেও আখেরে তাদের ভালোই পস্তাতে হয়।

বস্তুত কম বা বেশি, নিয়মিত বা অনিয়মিত, যেকোনো ব্যথায় কার্যকর চিকিৎসা হচ্ছে শরীরের নিয়ন্ত্রিত নড়াচড়া, যাকে আমর‍া সহজ ভাষায় বলি ব্যায়াম।

সাধারণত, যারা অবিরাম ব্যথায় আক্রান্ত স্বাভাবিকভাবেই তাদের মনে হতে পারে ব্যায়াম পরিহার করাই তাদের শরীরের জন্য ভালো। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে এসব ক্ষেত্রে বরং নিয়ন্ত্রিত ও পরিমিত ব্যায়ামই হতে পারে কার্যকরী সমাধান।

জন হপকিন্স মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পেইন ম্যানেজমেন্ট বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হাওয়ার্ড লেভি বলেন, ব্যথায় আক্রান্ত এমন লোকও আছেন, যারা বিছানা থেকে বাথরুমে হেঁটে যেতেও কষ্ট পান। অথচ আশ্চর্যজনক হলেও সত্য যে বিশেষ ব্যায়ামের সাহায্যে এমন ব্যথা থেকেও মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের ব্যথাও ব্যায়ামে আরোগ্য হয়। ব্যায়ামের ফলে শরীরের রক্ত সঞ্চালন বেড়ে যায়। এর ফলে শরীরের মাংসপেশীগুলো অধিক অক্সিজেন গ্রহণের পাশাপাশি পুঞ্জিভূত কার্বন-ডাই-অক্সাইড ও অন্যান্য টক্সিনজাতীয় বিষাক্ত পদার্থ শরীর থেকে বের করে দেয়। মূলত এসবই শরীরের ব্যথা-বেদনার জন্য দায়ী।

এছাড়া ব্যায়ামের ফলে হ্নৎপিণ্ড পাম্প (সংকোচন-সম্প্রসারণ) হতে পারে আরও কার্যকরভাবে। ফলে সহসাই ক্লান্তিতে ভেঙ্গে আসবে না আপনার শরীর। একই কারণে মাংসপেশীতে খিঁচুনিজনিত ব্যথার আশংকাও থাকে কম।

নিয়মিত ব্যায়াম শরীরের বাড়তি ক্যালোরি দহন করে, ফলে ওজন থাকে নিয়ন্ত্রণে, আর ব্যথার অন্যতম কারণ হলো এই বাড়তি ওজন।

আসলে প্রাকৃতিক পেইন কিলার হলো এন্ডরফিন, যা মস্তিষ্ক থেকে নির্গত এক ধরণের হরমোন। ব্যায়ামের ফলে মস্তিষ্কে আপনা-আপনিই এ জাতীয় হরমোন উৎপন্ন হয়ে থাকে। ফলে ব্যথা কমানোর জন্য বাড়তি কোনো ঝামেলার দরকার নেই।

পাশাপাশি ব্যায়াম গভীর ঘুমেরও উৎস বটে। একটা ফাটাফাটি গভীর ঘুম আপনাকে দিতে পারে অন্যরকমের প্রশান্তি। পক্ষান্তরে ভালো ঘুম না হওয়া যেমন একদিকে শরীর ও মনের অবসন্নতার কারণ অপরদিকে এর ফলে বেড়ে যেতে পারে ব্যথার ঝুঁকি।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে এ ধরণের পরিস্থিতিতে ঠিক কী কী ধরনের ব্যায়াম যুতসই? বিশেষ করে ব্যথানাশে কোন্‌ ধরনের ব্যায়াম অধিক কার্যকর?

দি আমেরিকান কাউন্সিল অন এক্সারসাইজ বা এসিই এ ব্যাপারে কিছু প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেছে।

ব্যায়াম শুরুর আগে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন। প্রথমেই জোরে শোরে শুরুর থেকে ধীরে ধীরে ব্যায়াম শুরু করুন। তারপর আস্তে আস্তে ব্যায়ামের সময় বাড়ান, পাশাপাশি ব্যায়ামে বৈচিত্র আনুন।

প্রথম বার একনাগাড়ে ৫ মিনিটের বেশি ব্যায়াম করার দরকার নেই। তবে ধীরে ধীরে এর মেয়‍াদ ২০ মিনিটে উন্নীত করুন।

আস্তে আস্তে আপনার শরীরের অবস্থা বুঝে শরীরের জন্য উপযোগী ব্যায়ামগুলোর একটি রুটিন তৈরি করুন, এবং সেগুলোই নিয়মিত অনুশীলন করতে থাকুন। ব্যায়ামের কোনো পর্যায়ে যদি ক্লান্তি এসে ভর করে অথবা অনুভূত হয় অসুস্থতা, তবে ব্যায়াম বন্ধ করে বিশ্রাম নেন।

সাধারণত মাংসপেশী গঠন ও ব্যথা নিবারণে হালকা ধরণের ব্যায়ামই বেশি কার্যকর। এ-জন্য হাঁটা অথবা বাইসাইকেল চালানোই হতে পারে সর্বোত্তম ব্যায়াম। তবে সাঁতার কাটা কিংবা বাথটাবে শুয়ে ( যাদের সুযোগ আছে) ওয়াটার এক্সারসাইজ বা জলকেলিও হতে প‍ারে সুন্দর সমাধান।

তবে যাদের জন্য এসবের কোনটিই সহজ নয় তারা বিছানায় চিৎ হয়ে শুয়ে দুই হাত ও পা উপরে রেখে বাইসাইকেল চালানোর ভঙ্গিতে দুই পা নাড়াতে পারেন। এছাড়া দুই হাত ও পায়ের কনুই এবং হাঁটু ক্রমাগতভাবে ভাঁজ ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে অস্থি জোড়ার রক্ত সঞ্চালনও বাড়াতে পারেন।

দুটি রাবার বল দুই হাতের মুঠোয় রেখে ক্রমাগত চেপে ধরে ও ছেড়ে দিয়ে হাতের আঙুল তথা সমস্ত শিরা-উপশিরা ও ধমনীতে বাড়ানো যায় রক্তসঞ্চালন।

আলস্য না করে আজই শুরু করুন না। দেখবেন আস্তে আস্তে আপনার ম্যাজম্যাজে শরীরটা কী সুন্দর এসে যাচ্ছে আপনার নিয়ন্ত্রণের মধ্যে। শরীর আর মনের সমন্বয়ও হচ্ছে দারুন।

তাই আর দেরী নয়, শুরু করে দিন আজই। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, আর অবশ্যই থাকুন বাংলানিউজ স্বাস্থ্য পাতার সঙ্গে।

0 comments:

Post a Comment

 
Copyright © . ডাক্তারের পরামর্শ - Posts · Comments
Theme Template by BTDesigner · Powered by Blogger