Monday, September 23, 2013

কোয়ান্টাম ব্যায়াম

কোয়ান্টাম ব্যায়াম কেন?
মেডিটেশন মনকে ভালো রাখে। প্রশান্ত আনন্দময়তা এনে দেয়। রোগ-ব্যাধি মুক্তির প্রক্রিয়া সক্রিয় করে তোলে। কিন্তু সত্যিকার সু-স্বাস্থ্যের স্বাদ পেতে হলে প্রয়োজন নিয়মিত ব্যায়াম। এ উপলব্ধি থেকেই হাজার বছর ধরে আমাদের সাধকরা ব্যায়াম চর্চা করে আসছেন।

বিংশ শতাব্দীতে এসে ব্যায়াম পরিণত হয়েছে আধুনিক মানুষের দেহ-মন সুস্থ রাখার এক আন্দোলনে। আর এ ব্যায়ামের মধ্যে সেরা হচ্ছে কোয়ান্টাম ব্যায়াম যা যোগ ব্যায়ামেরই সহজ ও আধুনিক সংস্করণ।
নতুন সহস্রাব্দের আধুনিক নর-নারীর জন্যে যোগ ফাউন্ডেশনের সিকি শতাব্দীর পর্যবেক্ষণ ও গবেষণার আলোকে করা হয়েছে এ আধুনিকায়ন। বিভিন্ন আসনে দম নেয়া ও দম ছাড়া চর্চা করতে গিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে চর্চাকারীরা যে বিভ্রান্তি বা জটিলতার সম্মুখীন হতেন কোয়ান্টাম ব্যায়ামে তা নেই। অথচ একই উপকার পাওয়া যাচ্ছে চমৎকারভাবে। আর এ আসনের সাথে যোগ করা হয়েছে কোয়ান্টাম মেথড চর্চার আলোকে সুস্থতার মনছবি। ফলে কোয়ান্টাম ব্যায়াম হয়ে উঠেছে যোগের সবচেয়ে সহজ ও ফলপ্রসূ একটি প্রক্রিয়া।

১৯৭৯ সালে গুরুজী সূচিত এ উদ্যোগ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায় ১৯৮৩ সালে যোগ মেডিটেশন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। আর তখন থেকেই বাংলাদেশে প্রথম মহিলাদের জন্যে এ ব্যায়াম প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেন মা-জী নাহার আল বোখারী। বছরের পর বছর শত শত মহিলা তার কাছ থেকে সরাসরি প্রশিক্ষণ নিয়ে চর্চা করে তাদের ব্যাকপেইন, স্পন্ডিলাইটিস, পিরিয়ডের সমস্যাসহ বহু মনোদৈহিক রোগ থেকে মুক্ত হয়েছেন।
কোয়ান্টাম ব্যায়াম-
শরীরের প্রতিটি কোষে অক্সিজেন সরবরাহ বাড়ায়। ফলে ব্যকটেরিয়া-ভাইরাস সহজে দেহে বাসা বাঁধতে পারেনা।
এন্ডোক্রাইন সিস্টেমে হরমোনের প্রবাহ বাড়িয়ে দেয় এবং লিম্ফেটিক সিস্টেমকে গতিশীল করে।
কোষ থেকে বিষাক্ত অণুর নি:সরণ ঘটায়।
দেহের জৈব-চুম্বকীয় শক্তিকে ভারসাম্যপূর্ণ করে।
পেশী এবং স্নায়ুর শক্তি বাড়ায়।
স্ট্রেস দূর করে দেহ এবং মন দুইই সুস্থ রাখে।
তারুণ্যকে দীর্ঘায়িত করে, ত্বক এবং ফিগারের স্বাভাবিক সৌন্দর্যকে বাড়ায়।
বাড়তি ক্যালরি খরচ হয়না বলে খাবারের চাহিদাও বেশী হয় না।
কোয়ান্টাম ব্যায়াম মূলত মনোদৈহিক ব্যায়াম। শারীরিক সুস্থতা ও মানসিক প্রাণবন্ততা- দুটোই অর্জিত হয় এর মাধ্যমে। কোয়ান্টাম ব্যায়াম ও প্রচলিত সাধারণ ব্যায়ামের পার্থক্য আলোচনা করলেই বিষয়টি আমাদের কাছে আরো সুস্পষ্ট হয়ে উঠবে।

0 comments:

Post a Comment

 
Copyright © . ডাক্তারের পরামর্শ - Posts · Comments
Theme Template by BTDesigner · Powered by Blogger