চোখ : বাঁ
চোখে তিলের কারণে দাম্পত্যে সন্দেহ বাড়তে পারে। শেষ বয়সে স্বাস্থ্যহানি
ঘটতে পারে। ডান চোখের ভেতরে কিংবা আশপাশে তিল তীক্ষ্ম বুদ্ধি-বিবেচনা
বোঝায়। তারা আবার কখনো কখনো নিষ্ঠুরও হন। তবে বৈষয়িক কর্মকাণ্ডে সফল হন।
বাঁ চোখে তিলধারীরা সাধারণত কর্ম ও ব্যক্তিজীবনে দুর্ভোগে পড়েন।
চিবুক : চিবুকের
যে কোনোদিকে তিল থাকা অতি সৌভাগ্যের লক্ষণ। চিবুকে তিলধারীরা খুব সহজে
জনপ্রিয়তা পায়। রাজনীতিতে তাদের শক্ত অবস্থান হয়। পাশাপাশি তারা আর্থিক
সৌভাগ্যবান হন। তারা প্রেমিক মনের হন। তবে অতিরঞ্জিত হওয়ার কারণে
প্রেমিক-প্রেমিকার দূরত্ব বাড়ে।
গাল : ডান
গালে তিল সৌভাগ্যের প্রতীক। বিবাহিত জীবনে এরা খুব সুখী হয়। অপরদিকে কোনো
নারীর বাঁ গালে তিল থাকলে দাম্পত্য জীবন নিরানন্দে কাটে। এদের কারও কারও
কাছে সাফল্য ধরা দেয় ঠিকই, কিন্তু তা বহু কাঠখড় পোড়ানোর পর। ততদিনে
সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য অনেক দূরে চলে যায়।
কান : ডান
কানে তিলধারীরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপনে
অভ্যস্ত হন। বিশেষ করে পিতা-মাতার প্রতি একনিষ্ঠ হন। বাঁ কানে তিল
দায়িত্বজ্ঞানহীনতা নির্দেশ করে।
পিঠ : পিঠে
তিল থাকা উদারতার লক্ষণ। এরা দয়ালু ক্ষমতাবান সাহসী ও দৃঢ়চেতা হন। এরা
যেমন পরামর্শ শোনেন, অন্যকে পরামর্শ দিতেও পছন্দ করেন। যুক্তিতর্কে তাদের
সঙ্গে পেরে ওঠা কঠিন। আর পিঠের নিচের দিকে তিল থাকলে এরা কিছুটা আরামপ্রিয়
হন; বিপরীত লিঙ্গের প্রতি দুর্নিবার আকর্ষণ থাকে। পিঠের নিচ দিকে তিলধারী
মেয়েরা হন যথেষ্ট আবেদনময়ী।
বাহু : ডান
বাহুতে তিল থাকা সৌভাগ্যের পরিচায়ক। এরা বুদ্ধি ও শক্তিতে বেশ এগিয়ে
থাকেন। আর্থিকভাবেও স্বাচ্ছন্দ্যে থাকেন। এদের দাম্পত্য জীবন হয় মধুর। বাম
বাহুতে তিল থাকলে দুর্ভাগ্য পিছু ছাড়তে চায় না।
গোড়ালি : গোড়ালিতে তিলধারীরা পণ্ডিত হন। মেয়েদের গোড়ালিতে তিল থাকলে কাজ-কর্মে চটপটে হন। বিশেষ করে রান্না-বান্নায় পারদর্শী হন।
পেট : পেটে
তিল থাকা শুভ নয়। সাধারণত পেটে তিলধারীরা অলস ও কামুক স্বভাবের হন। তাদের
আচার-আচরণে সুরুচির ছাপ থাকে না। কখনো কখনো তারা ভোজনরসিকও হন। তলপেটে তিল
থাকলে গোপনাঙ্গে বিভিন্ন অসুখের আশঙ্কা থাকে। কখনো কখনো এর উল্টোও ঘটে।
বুক : বুকের
ডানদিকে তিল থাকলে অর্থ ও সুখ্যাতি দুই-ই অর্জিত হয়। এরা উদার স্বভাবের
হন। তবে সতর্ক না হলে অর্জিত সম্পদ বেহাত হতে পারে। বুকের বাঁ দিকে তিল
থাকলে সাফল্য অর্জন কম হলেও তা দীর্ঘায়িত হয়। এরা জীবনে খুব বড় হতে না
পারলেও জীবন সুখেই কাটে। বুকের মাঝখানে তিল দুর্ভাগ্যের পরিচায়ক। দাম্পত্য
জীবনে পরকীয়া সমস্যা হতে পারে। মাঝে-মধ্যে অর্থ-কষ্টও হতে পারে।
পায়ের পাতা : ডান
পায়ের পাতায় তিল ভ্রমণের ইঙ্গিত করে। বাঁ পায়ের পাতায় যাদের তিল থাকে
তারাও জীবনে ভ্রমণের সুযোগ পান, কিন্তু প্রায়ই তারা ভ্রমণে সময় ও অর্থ
অপচয় করেন।
কপাল : কপালের
ডানদিকে তিল থাকা বিশেষ সৌভাগ্যের পরিচায়ক। প্রবল মানসিক শক্তিতে
বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করতে পারেন তারা। সাধারণত এরা হন সৌভাগ্যবান। কপালের
বাঁ দিকে তিল থাকলে দুর্ভাগ্য হাতছানি দেয়। প্রচুর অর্থোপার্জন করেও তারা
সঞ্চয়ী হন না। কখনো কখনো নৈতিক স্খলনও ঘটে। কপালের মাঝখানে তিলধারীরা
বিশ্বস্ত প্রেমিক হন। খুব সুখী হন বিবাহিত জীবনে।
আঙ্গুল : ডান
হাতের বুড়ো আঙ্গুঁলে তিল থাকলে বিপরীত লিঙ্গের মাধ্যমে আর্থিক সচ্ছলতা
আসার সম্ভাবনা থাকে। আর তর্জনীর তিল কর্মস্থলে সাফল্য নির্দেশ করে।
হাত : ডান হাতে তিল থাকলে কর্মোদ্যমী হন। কিন্তু বাঁ হাতে তিল থাকলে কর্মোদ্যমী হলেও কাজের যথাযথ মূল্যায়ন প্রায়ই হয় না।
নিতম্ব : পুরুষের
নিতম্বে তিল কামুক ও আবেদনময় স্বভাবের পরিচায়ক। অন্যদিকে মহিলাদের
ক্ষেত্রে তা বেশি সন্তান প্রজননের ইঙ্গিত দেয়। এরা পুরুষের চেয়ে বেশি
কামুক হন। অনেক ক্ষেত্রে এ কারণটাই তাদের দাম্পত্য জীবনে কাল হয়ে
দাঁড়ায়।
নাক : নাকে
তিল থাকা বিশেষ সৌভাগ্যের লক্ষণ। ডানে তিল সৌভাগ্যের মাত্রা ইঙ্গিত করে।
নাকের বাঁ দিকে তিলধারীরা সৌভাগ্যের দেখা পান। আর নাকে তিলধারী নারীরা
স্বামীর ভালোবাসা বেশি পান।
কাঁধ : ডান-বাঁ,
যে কাঁধেই তিল থাকুক তা কঠোর পরিশ্রমের নির্দেশনা দেয়। ডান কাঁধে তিল
থাকলে পরিশ্রমে সাফল্যের দেখা মেলে। কিন্তু বা কাঁধের তিল কিছুটা
দুর্ভাগ্যেরও ইঙ্গিত দেয়।
গলা : গলায়
তিল সৌভাগ্যের নির্দেশনা দেয়। ডান দিকে থাকলে এর পূর্ণ কার্যকারিতা দেখা
যায়; গলার বাঁ দিকে থাকলেও কখনো কখনো সম্পদহানি ঘটে। বৈবাহিক জীবনে
জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে। পুরুষের গলায় তিল থাকলে স্ত্রীর ভালোবাসা বৃদ্ধি
পায়।
0 comments:
Post a Comment